ওই দিন রাতে ভাইয়া ফোন দিয়েই কান্না শুরু করে দিছে, ভাবলাম আম্মুর কথা হয়তো মনে পড়েছে। জিজ্ঞেস করলাম কি হইছে ভাইয়া? বললো মোজাম্মেল নাকি কিছু খায় না, ঘুমায় না, কারো সাথে কথা বলে না, কেউ কোন প্রশ্ন করলে উত্তর দেয় না এমনকি আব্বুর সাথেও কথা বলে না। শুনে ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। আম্মু চলে যাওয়ার পর খারাপ কিছু শুনতে পারিনা। কি এমন হলো যে, সে এমন করতেছে। ফোন দিলাম ফোনটাও ধরে না, কারো ফোন ধরে না। আব্বুর ফোন দিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলাম, প্রত্যেকটা প্রশ্নের জবাব হুম, না এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। সাথে সাথে ব্যাগ গুছিয়ে ফেললাম, ক্লাস জাহান্নামে যাক আমি আগে বাড়িতে যাই। সকাল ৭ টা বাজে রওয়ানা দিয়ে বিকাল ৩.৩০ এর দিকে বাড়িতে পৌছালাম। ঘরে গিয়ে দেখি ও কাথা মুড়িয়ে শুয়ে আছে। টেনে তুলে দেখি ওর চোখের নিচ গুলো কালো হয়ে গেছে, একেবারে শুকিয়ে গেছে, দেখেই আবারো ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো। রাতে ভাইয়া এসে পৌছালো, তারপর সে আমাদের হাতে একটা চিঠি দিল। চিঠিটার ভিতরে ছিল ডিপ্রেশন। একা একা থাকতে থাকতে এই অবস্হা। ওরা নাকি কোন কিছু ভালো লাগে না, শুধু বিভিন্ন বিষয় চিন্তা করতে ভালো লাগে। কারো কথাও ভালো লাগেনা, বিরক্ত লাগে সব। অনেক বুঝিয়ে, ডিপ্রেশন কাটানো কিছু নাটক, মুভি দেখিয়ে স্বাভাবিক করেছি, যদি প্রকাশ না করতো তাহলে কি হত কে জানে। আম্মু যাওয়ার পর ক্লাসে নাকি একা একা বসে থাকতো, হোস্টেলের রুমমেট গুলোও করনার কারনে বাড়ি চলে গিয়েছিল, সেখানেও একা, বাড়িতে আসার পর ঘরেও একা।